জাপান একটি ভিন্ন সংস্কৃতির দেশ — এখানকার সমাজব্যবস্থা, শিষ্টাচার ও সামাজিক নিয়ম অনেকটাই নির্দিষ্ট এবং কড়া। একজন বাংলাদেশি হিসেবে জাপানে গিয়ে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাপানে এই ১০টি কাজ ভুলেও করবেন না!
১. পাবলিক প্লেসে উচ্চস্বরে কথা বলা বা চিৎকার করা
জাপানিরা শান্ত পরিবেশকে অত্যন্ত মূল্য দেয়।ট্রেন, রেস্টুরেন্ট, দোকান বা লাইব্রেরিতে জোরে কথা বললে, এটি অন্যদের বিরক্ত করতে পারে এবং আপনাকে ‘অশিক্ষিত’ ভাবা হতে পারে।
ট্রেনে বা বাসে মোবাইলে কথা বলা
পাবলিক ট্রান্সপোর্টে মোবাইলে কথা বলা একদম নিষেধ।সাউন্ড অন করে ভিডিও দেখা, গান শোনা, বা কথা বলা — এসবকে অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও অশালীন মনে করা হয়। একা থাকলেও হেডফোন ব্যবহার করা উচিত।
অচেনা কারো গায়ে হাত রাখা বা হ্যান্ডশেক করা
জাপানে হ্যান্ডশেক নয়, নম করে সালাম দেওয়া সম্মানের প্রতীক।কাঁধে হাত রাখা, হাত ধরা, এমনকি হাত মেলানোও অনেক সময় অস্বস্তিকর মনে করে। তারা ব্যক্তিগত পরিসর (personal space) বজায় রাখতে পছন্দ করে।
টিপ দেওয়া
অনেকেই বিদেশি হিসেবে ভালোবাসা দেখাতে টিপ দিতে চান, কিন্তু জাপানে এটি ‘অসম্মান’ হিসেবে দেখা হয়।রেস্টুরেন্ট, ট্যাক্সি বা সেলুনে অতিরিক্ত টাকা দিলে তারা অপমানিত বোধ করতে পারেন। পরিষেবা এখানে দায়িত্ব, টাকা নয়।
রাস্তায় থুথু ফেলা বা ময়লা ফেলা
জাপান বিশ্বের অন্যতম পরিচ্ছন্ন দেশ।পাবলিক প্লেসে থুথু ফেলা বা চিপসের প্যাকেট ফেলা এখানে আইনত অপরাধ — এবং জাপানিরা খুব কড়া চোখে দেখে। নিজেকে ভদ্র হিসেবে প্রমাণ করতে হলে পরিচ্ছন্নতা আগে।
বিনা অনুমতিতে কারো ছবি তোলা বা ভিডিও করা
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা জাপানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার।রাস্তায়, দোকানে, মন্দিরে বা পার্কে যদি কারো ছবি তোলেন — বিশেষ করে বাচ্চা বা নারীদের — তাহলে পুলিশ পর্যন্ত ডাকা হতে পারে।
ঘরে বা কিছু Restaurant এ জুতা পায়ে প্রবেশ না করা
এটি জাপানে বিশাল এক ‘NO’!বাসা, টেম্পল, কিছু ট্র্যাডিশনাল রেস্টুরেন্ট বা হোটেলে ঢোকার আগে জুতা খুলে রাখতে হয়। জুতা পায়ে ঢোকা মানেই জায়গাটিকে অশুদ্ধ করা।
কাজের সময় আড্ডা দেওয়া বা পার্সোনাল বিষয়ে প্রশ্ন করা
জাপানিরা সময় ও কাজকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।অফিসে বা কাজে কথা বলার সময় পার্সোনাল প্রশ্ন (বয়স, বেতন, পরিবার ইত্যাদি) করাও অপছন্দ করে।আড্ডা নয়, অফিসে কাজই প্রধান।
কারো কথা কেটে কথা বলা বা বেশি কথা বলা
জাপানিদের কাছে বিনয় ও ধৈর্য শ্রেষ্ঠ গুণ।তারা কথা বলার সময় কেউ মাঝখানে ঢুকে গেলে তা অপমানজনক মনে করে। আলোচনা হোক বিনয় ও শ্রদ্ধার ভঙ্গিমায়।
লোকজনের দিকে আঙুল তোলা, জোরে হাসা বা ওভাররিঅ্যাক্ট→ একে ‘অপরিপক্বতা’ বা ‘উগ্রতা’ মনে করা হয়।
জাপানিরা সংযত হাবভাব পছন্দ করে। অতিরিক্ত হাসাহাসি বা অন্যদের দিকে আঙুল তুলে কথা বলা তাদের চোখে অশোভন।

