জাপানি খাবারের স্বাদে আছে সরলতা, স্বাস্থ্য আর এক ভিন্ন ধরণের শিল্পকলা।
চলুন জেনে নেই জাপানের ১০টি জনপ্রিয় খাবার এবং তাদের সহজ প্রস্তুত প্রণালী:
সুশি (Sushi)
উপকরণ: সুশি রাইস, ভিনেগার, নরি (সি-উইড), মাছ/সীফুড, সবজি।
প্রস্তুত প্রণালী:
ভাত রান্না করে ভিনেগারের সাথে মেশানো হয়।
নরির উপর ভাত ছড়িয়ে মাছ বা সবজি রাখা হয়।
রোল করে কেটে ছোট টুকরা করা হয়।
রামেন (Ramen)
উপকরণ: নুডলস, মুরগি/শূকর মাংস, ডিম, সয়াসস, মিসো পেস্ট।
প্রস্তুত প্রণালী:
স্যুপ বেস তৈরি করা হয় (চিকেন স্টক বা মিসো দিয়ে)।
নুডলস সেদ্ধ করে স্যুপে ডুবানো হয়।
উপর থেকে সেদ্ধ ডিম, মাংস ও সবজি যোগ করা হয়।
টেম্পুরা (Tempura)
উপকরণ: চিংড়ি/সবজি, ময়দা, ডিম, ঠাণ্ডা পানি।
প্রস্তুত প্রণালী:
সবজি বা চিংড়ি ব্যাটারে ডুবিয়ে নেওয়া হয়।
গরম তেলে ক্রিসপি করে ভাজা হয়।
বিশেষ টেম্পুরা সসের সাথে পরিবেশন করা হয়।
ওকোনোমিয়াকি (Okonomiyaki)
উপকরণ: বাঁধাকপি, ডিম, ময়দা, মাংস/সীফুড, মেয়োনিজ, সস।
প্রস্তুত প্রণালী:
বাঁধাকপি, ময়দা ও ডিম মিশিয়ে ব্যাটার তৈরি করা হয়।
তাওয়ায় প্যানকেকের মতো ভাজা হয়।
উপর থেকে মেয়োনিজ, ওকোনোমিয়াকি সস আর শুকনো মাছের ফ্লেক্স ছড়িয়ে পরিবেশন করা হয়।
তাকোইয়াকি (Takoyaki)
উপকরণ: ময়দার ব্যাটার, অক্টোপাস টুকরা, সবজি, টেম্পুরা ক্রিস্প, সস।
প্রস্তুত প্রণালী:
বিশেষ তাকোইয়াকি প্যানে ব্যাটার ঢালা হয়।
ভেতরে অক্টোপাসের টুকরা দিয়ে গোল করে ভাজা হয়।
উপর থেকে সস, মেয়োনিজ আর শুকনো মাছ ফ্লেক্স ছড়ানো হয়।
সাশিমি (Sashimi)
উপকরণ: টুনা, স্যামন বা অন্যান্য কাঁচা মাছ।
প্রস্তুত প্রণালী:
মাছকে বিশেষ ধারালো ছুরি দিয়ে পাতলা টুকরা করা হয়।
ওয়াসাবি ও সয়াসস দিয়ে পরিবেশন করা হয়।
ইয়াকিনিকু (Yakiniku)
উপকরণ: গরু/শূকর মাংস, সয়াসস, রসুন, আদা।
প্রস্তুত প্রণালী:
মাংস পাতলা স্লাইসে কাটা হয়।
গ্রিল বা তাওয়ায় হালকা মশলা মেখে ভাজা হয়।
ডিপ সসের সাথে খাওয়া হয়।
উডন (Udon)
উপকরণ: মোটা নুডলস, সয়াসস, দাশি স্টক, পেঁয়াজপাতা, ডিম।
প্রস্তুত প্রণালী:
উডন নুডলস সেদ্ধ করা হয়।
দাশি (ফিশ স্টক) দিয়ে স্যুপ তৈরি করা হয়।
উপর থেকে ডিম, সবজি ও মাংস যোগ করা হয়।
মিসো স্যুপ (Miso Soup)
উপকরণ: মিসো পেস্ট, দাশি, তোফু, সি-উইড, পেঁয়াজপাতা।
প্রস্তুত প্রণালী:
দাশির সাথে মিসো পেস্ট মিশিয়ে স্যুপ তৈরি করা হয়।
তোফু ও সি-উইড যোগ করা হয়।
হালকা গরম অবস্থায় পরিবেশন করা হয়।
ডনবুরি (Donburi)
উপকরণ: ভাত, ডিম, মুরগি/গরু মাংস, সয়াসস, পেঁয়াজ।
প্রস্তুত প্রণালী:
ভাতের উপর সয়াসসে রান্না করা মাংস ও ডিম দেওয়া হয়।
এক বাটি খাবার হিসেবে পরিবেশন করা হয়।
জাপানি খাবারের বিশেষত্ব হলো – হালকা, স্বাস্থ্যকর এবং দেখতে শিল্পকর্মের মতো সুন্দর। এগুলো শুধু জাপানে নয়, বিশ্বব্যাপী ভোজনরসিকদের কাছে জনপ্রিয়।

